ইপেপার / প্রিন্ট
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন-এ চলতি মৌসুমের মধু আহরণ কার্যক্রম শুরু হলেও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মৌয়ালরা। তাদের ভাষ্য, বাঘ, সাপ কিংবা কুমিরের ভয় থাকলেও এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে জলদস্যু।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ এপ্রিল থেকে সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে মৌয়ালরা মধু সংগ্রহ শুরু করেছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও শত শত মৌয়াল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর বনে প্রবেশ করছেন। তবে এবারের মৌসুমে দস্যুদের তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
মৌয়াল মতিউর রহমান বলেন, বাঘ থাকলে বাঁচার একটা সুযোগ থাকে, কিন্তু দস্যুদের হাতে পড়লে মারধর, মুক্তিপণ—সবকিছুর ঝুঁকি থাকে। আরেক মৌয়াল হাফিজুল ইসলাম জানান, আগে এক-দুইটি গ্রুপকে টাকা দিলেই চলত, এখন চার-পাঁচটি গ্রুপকে টাকা দিতে হয়, যা তাদের জন্য বড় বোঝা।
স্থানীয় মৌয়াল শাহাবুদ্দিন গাইন বলেন, মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বনে যেতে হয়। কিন্তু মধু কম পেলে ঋণ শোধ করা যায় না, উল্টো নৌকাও হারানোর ঝুঁকি থাকে। তার ওপর দস্যুদের চাঁদাবাজি আলাদা চাপ তৈরি করছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ১,১০০ কুইন্টাল মধু এবং ৬০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধু আহরণের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২১ সালে ৪,৪৬৩ কুইন্টাল মধু সংগ্রহ হলেও ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ২,০৭৬ কুইন্টালে।
একইসঙ্গে মৌয়ালের সংখ্যাও কমছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৮ হাজার মৌয়াল এই কাজে যুক্ত থাকলেও ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজারে।
এ বিষয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং দস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। কিছু আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত জলদস্যু আতঙ্ক দূর করা না গেলে মধু আহরণে অংশগ্রহণ আরও কমে যেতে পারে, যা উপকূলীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।