সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়ে বনদস্যুদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন আতিয়ার রহমান (৬৫) নামে এক জেলে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে সুন্দরবন এর সাতক্ষীরা রেঞ্জের কলাগাছিয়া মুল্লি খালের ভারানির মুখ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আহত আতিয়ার রহমান সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা এর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি মৃত মান্দার গাজীর ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে আতিয়ার রহমানসহ কয়েকজন জেলে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে কাঁকড়া শিকারের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন। তারা যখন নির্দিষ্ট স্থানে জাল ফেলছিলেন, তখন হঠাৎ করে বনদস্যুদের একটি সশস্ত্র দল সেখানে এসে উপস্থিত হয়। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই তারা জেলেদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে আতিয়ার রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য জেলেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে। পরে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বন বিভাগের সহযোগিতায় হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় জেলেদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা জানাচ্ছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনে আবারও বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাদের জীবিকা নির্বাহকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। দ্রুত বনদস্যুদের দমন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী বন স্টেশনের কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, দুপুর ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আতিয়ার রহমান তাদের অফিসে পৌঁছান। পরে তাকে দ্রুত শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। একইসঙ্গে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ পুলিশ এর শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলে পুলিশ সবসময় সক্রিয় রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে আহত জেলের খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের মতো দুর্গম এলাকায় নিয়মিত টহল ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো না গেলে বনদস্যুদের সম্পূর্ণ নির্মূল করা কঠিন। তাই জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।