ইপেপার / প্রিন্ট
সিলেট বিভাগের ব্যস্ততম সড়কগুলোর একটি সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ মহাসড়ক। সম্প্রতি রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে অবৈধ ট্রাক পার্কিংয়ের কারণে বেড়ে চলেছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট ও স্থায়ী জনদুর্ভোগ। এতে আতঙ্কিত স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, সাধারণ যাত্রীসহ পর্যটকরাও।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দিনের পর দিন ট্রাকগুলো রাস্তার একাধিক পয়েন্টে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে লাচুখাল, টুকেরবাজার, বউবাজার ও সাকেরা পয়েন্টের পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। এসব এলাকায় ট্রাক পার্কিংয়ের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল।
শিক্ষার্থী আরিফ বলেন,
“প্রায় প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে কলেজে যেতে হয়। গতকাল একটি ট্রাকের সাথে অটোরিকশার ধাক্কায় তিনজন আহত হন। বিশেষ করে সাকেরা এলাকায় এত বেশি ট্রাক থাকে যে মনে হয় কখন যেন দুর্ঘটনা ঘটে যায়।”
এম. সাইফুর রহমান কলেজের শিক্ষার্থী সোহেল জানান,
“টুকেরবাজার ও সাকেরা পয়েন্টে যত্রতত্র ট্রাক পার্কিংয়ের কারণে নিরাপত্তাহীনতা চরমে। আমরা দ্রুত মহাসড়কটি নিরাপদ করার দাবি জানাচ্ছি।”
কোম্পানীগঞ্জ ছাত্র পরিষদ (কোছাপ)-এর সভাপতি হেলাল আহমদ বলেন,
“আমরা বহুদিন ধরে অবৈধ পার্কিং বন্ধে স্মারকলিপি, মানববন্ধন করেছি। তবুও সমাধান না হওয়ায় প্রয়োজনে আবারও আন্দোলনে নামতে হবে— এমন সিদ্ধান্তও সংগঠনে নেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রাজন বলেন,
“এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সারিবদ্ধ ট্রাকের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। অতীতে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিরাপদ সড়কের জন্য প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা জরুরি।”
উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি জসিমুল ইসলাম আঙ্গুরের দাবি,
“সাকেরা এলাকায় ট্রান্সপোর্টের অফিসগুলোর কারণে দীর্ঘ লাইনে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে। এতে জনদুর্ভোগ বেড়ে যায়। ট্রান্সপোর্ট অফিসগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।”
ট্রাক শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি কবির আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ জানান,
“মহাসড়কে ট্রাক পার্কিং অনুচিত। নির্ধারিত পার্কিং স্পট থাকা সত্ত্বেও কিছু ড্রাইভার নিয়ম ভঙ্গ করেন। খুব দ্রুত সংগঠনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে স্থানীয় ড্রাইভার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“পার্কিং স্পট থাকা সত্ত্বেও কেন রাস্তায় ট্রাক রাখবে? প্রশাসন কঠোর হলে আর কেউ সাহস করবে না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ—
২০১৬ সালে একনেক অনুমোদনে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি উন্নীত করে আধুনিক মহাসড়কে রূপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে সেই সুফল ভোগে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উত্তর সিলেটবাসীর স্বপ্নের এই সড়ক।
মহাসড়কটি দ্রুত অবৈধ পার্কিংমুক্ত করে যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।