ইপেপার / প্রিন্ট
দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, অতীতের রাজনৈতিক বিভাজন ও অস্থিরতার প্রভাব এখনো সমাজে রয়ে গেছে, যা কাটিয়ে উঠতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জরুরি।
বুধবার রাজধানীর উত্তরা এলাকায় আয়োজিত এক ইসলামিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় ধর্মীয় পরিচয় ও অনুশীলন নিয়েও সমাজে সন্দেহ ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সম্প্রীতির সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের উদাহরণ সৃষ্টি করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, গণবিচ্ছিন্ন ও ভোটারবিহীন শাসনব্যবস্থা সমাজে বিভেদ সৃষ্টিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছিল। ধর্মীয় বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা তারই অংশ ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বড় অঙ্কের ঋণ ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দুই বছর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা গেলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে। এজন্য তিনি নাগরিকদের বিভেদ ও অস্থিরতা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
জাতীয় সংসদে মতপার্থক্য ও বিতর্ককে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ যেন রাজপথে সংঘাত বা সহিংসতায় রূপ না নেয় সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আল্লামা মুফতি আব্দুল মালেক, নাজমুল হাসান কাসেমীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।
মন্ত্রী বলেন, সমাজে শান্তি, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে আলেম-উলামা ও ধর্মীয় নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।