ইপেপার / প্রিন্ট
ঢাকা জেলা পুলিশের চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সাভারে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে ৪০ কেজি গাঁজাসহ তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে পরিচালিত এ অভিযানে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল অংশগ্রহণ করে।
ঢাকা জেলা পুলিশের অভিভাবক পুলিশ সুপার জনাব শামীমা পারভীনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তর-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৩ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে সাভার মডেল থানার আমিনবাজার এলাকায় একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজন একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে মাইক্রোবাসের ভেতর বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মোট ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার বাসিন্দা রাশিদ মিয়া (৩১), বাবুল মিয়া (২৯) এবং তুষার মিয়া (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মাদক পরিবহনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সদস্য। তারা দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করত। দীর্ঘদিন ধরে তারা গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। উদ্ধারকৃত গাঁজার বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য এবং এসব মাদক যুবসমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, মাদক পাচার ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া মাদক সরবরাহের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্কের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী, পরিবহনকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা চক্রের মাদক সংশ্লিষ্ট তথ্য জানা থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।