ঢাকার শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে অবনতি ঘটছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অন্তত ২৪টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামাজিক লজ্জা ও ভয়-ভীতির কারণে আরও অনেক ঘটনা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
পুলিশের তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত Savar মডেল থানায় ৬টি এবং Ashulia থানায় ১৮টি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৩৩ জন এজাহারভুক্ত আসামি এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনো বেশ কয়েকজন পলাতক রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, এসব ঘটনার মধ্যে কিছু অত্যন্ত আলোচিত ও নৃশংস ঘটনা রয়েছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি এক তরুণী চলন্ত বাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় তাকে উদ্ধার করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের আটক করা হয়।
একই মাসে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় এক নববধূকে স্বামীকে জিম্মি করে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়, তবে অন্যান্য অভিযুক্তরা এখনও পলাতক।
ফেব্রুয়ারিতে Jahangirnagar University-এর এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়।
মার্চ মাসে আরেক ঘটনায় কনটেন্ট নির্মাতা পরিচয়ে পরিচিত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই ঘটনায় আরও দুজন আসামি এখনো গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হয়েছে।
এপ্রিল মাসেও একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে রয়েছে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং একটি কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা। এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কমছে না।
আইনজীবীরা বলছেন, ধর্ষণের জন্য দেশে কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা সামাজিক কারণে ন্যায়বিচারের পথে এগোতে সাহস পান না। Dhaka Judge Court-এর আইনজীবী মাহমুদুল হাসান বাদল জানান, মামলা করতে গেলে পরিবারকে নানা সামাজিক চাপের মুখে পড়তে হয়, যা অনেককে পিছিয়ে দেয়।
সামাজিক সংগঠনের নেতারা মনে করছেন, এটি কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, বরং একটি বড় সামাজিক ব্যাধি। তাদের মতে, পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব—সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, ট্রাফিক অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম জানান, পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে এবং বাকি অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, সাভার-আশুলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগই পারে এই অপরাধ প্রবণতা কমাতে।