ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধি, সংবিধান ও সংসদীয় রীতিনীতি অনুসরণ নিয়ে নানা বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলার প্রেক্ষাপটে এবার সংসদ সদস্যদের জন্য বিশেষ ওরিয়েন্টেশন কোর্সের আয়োজন করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। সংসদীয় কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করতে দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন নবীন ও প্রবীণ সংসদ সদস্যরা।
বুধবার (৩ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে শুরু হওয়া ‘মাননীয় সংসদ সদস্যদের জন্য সংবিধান, কার্যপ্রণালী বিধি ও সংসদীয় কার্যক্রম শীর্ষক ওরিয়েন্টেশন কোর্স’ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো সংসদ সদস্যদের সাংবিধানিক দায়িত্ব, সংসদীয় বিধিবিধান এবং কার্যপ্রণালীর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক অধিবেশনে অনেক সংসদ সদস্যের বক্তব্য ও আচরণে কার্যপ্রণালী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। এর ফলে কয়েক দফা সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং অধিবেশনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্যদের প্রতি কার্যপ্রণালী বিধি গভীরভাবে অধ্যয়ন এবং সংসদীয় রীতিনীতি অনুসরণের আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্পিকারের নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণের আলোকে এই ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ধারা, প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনার নিয়ম, নোটিশ প্রদান, বিল উত্থাপন ও পাসের পদ্ধতি, পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার বিধানসহ সংসদীয় কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, অনেক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার অভাব কিংবা বিধিবিধান সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকার কারণে প্রথম অধিবেশনে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করলে ভবিষ্যৎ অধিবেশনগুলো আরও ফলপ্রসূ, সুশৃঙ্খল এবং কার্যকর হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদীয় গণতন্ত্রের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে আইনপ্রণেতাদের বিধি-বিধান সম্পর্কে জ্ঞান ও তা অনুসরণের ওপর। সে কারণে সংসদের সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং বিতর্কের মান উন্নত করতে এমন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের কাছে মূল বার্তা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে—সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা ও তার যথাযথ প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। এর মাধ্যমেই সংসদের মর্যাদা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।