ইপেপার / প্রিন্ট
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুত আবাসন ভাতা বা সম্পূরক বৃত্তি দ্রুত প্রদান, স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশ এবং সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণাসহ পাঁচ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহিদ রফিক ভবনের নিচে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক কাজী আহাদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, যমুনা ঘেরাও আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল অন্তত ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে আবাসন ভাতা (সম্পূরক বৃত্তি) প্রদান। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এই বৃত্তি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে জানুয়ারি মাস পার হয়ে ফেব্রুয়ারিতে প্রবেশ করলেও এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিশ্রুত বৃত্তির অর্থ পাননি।
তিনি আরও বলেন, এ সংক্রান্ত একটি তালিকা প্রকাশ করা হলেও তা প্রশ্নবিদ্ধ ও ভিত্তিহীন। এতে প্রকৃত দাবিদার শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কাজী আহাদ বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল। কিন্তু অনিশ্চয়তা ও অসংগতির পরও জকসু প্রতিনিধিদের ভূমিকা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বারবার ‘এই সপ্তাহ’ বা ‘আগামী সপ্তাহ’-এর আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর অগ্রগতি নেই।
তিনি বলেন, বারবার হতাশ হয়ে শিক্ষার্থীদের পুনরায় আন্দোলনে নামতে হলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত হবে। ছাত্র অধিকার পরিষদ চায়, জকসু শিক্ষার্থীদের প্রকৃত স্বার্থরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করুক। এ লক্ষ্যে সংগঠনটি জকসুর সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাব পোষণ করে।
১. অনতিবিলম্বে সম্পূরক বৃত্তি প্রদানের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে।
২. সম্পূরক বৃত্তিকে কোনোভাবেই মেধা বৃত্তিতে রূপান্তর করা যাবে না; প্রকৃত দাবিদারদের প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. সম্পূরক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের স্বচ্ছ ও যাচাইকৃত তালিকা দ্রুত প্রকাশ করতে হবে।
৪. আন্দোলনের সময় যে পরিমাণ অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে; অর্থ কমানো হলে প্রশাসনকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
৫. এই বৃত্তি এককালীন নাকি আবাসন সংকট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত প্রদান করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।