শাল্লা উপজেলার উদগল হাওরে নির্মাণাধীন ফসলরক্ষা বাঁধ রাতের আঁধারে কেটে দেওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে। শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাতে নিয়ামতপুর ও জয়পুর গ্রামের মধ্যবর্তী বাঁধের একটি অংশ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় হাওরের পানি দ্রুত ছায়ার হাওরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে কৃষকদের অবশিষ্ট বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়পুর গ্রামের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত উদগল হাওরের বাঁধটি রাতের কোনো এক সময়ে কেটে দেওয়া হয়। এরপর পানি প্রবাহ বেড়ে গিয়ে আশপাশের নিচু জমিতে ঢুকতে শুরু করে। স্থানীয়দের ধারণা, মাছ ধরার উদ্দেশ্যে কেউ পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটাতে পারে।
ছায়ার হাওরের কৃষক সবিনয় শীল বলেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে এমনিতেই অনেক জমির ধান নষ্ট হয়েছে। পানি কিছুটা কমতে শুরু করায় উঁচু জমির ধান ঘরে তোলার আশা ছিল। কিন্তু নতুন করে বাঁধ কেটে দেওয়ায় সেই আশাও এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁধ দ্রুত মেরামত করা না গেলে শুধু ফসল নয়, এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ হাওরাঞ্চলে মানুষের চলাচলের জন্য এই বাঁধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্রুত বাঁধ পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল হক জানান, সকালে খবর পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। আজকের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দাবি, প্রতি বছরই ফসলরক্ষা বাঁধ নিয়ে নানা অনিয়ম ও নাশকতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় কৃষকরা বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছেন।