ঢাকার শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়ন করতে না পারার ব্যর্থতাই পরবর্তীতে স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি নির্মাণে ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন Mufti Syed Muhammad Rezaul Karim। সোমবার (৪ মে) এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, Shapla Chattar incident 2013 আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বর্বরোচিত ও কলঙ্কময় অধ্যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন রাজধানীর শাপলা চত্বরে অবস্থানরত অধিকাংশ মানুষই ছিল নিরস্ত্র ছাত্র, যাদের বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অপরাধের পূর্ব ইতিহাস ছিল না।
পীর চরমোনাই দাবি করেন, ওই রাতে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর সশস্ত্র অভিযানের মতো করে হামলা চালায়, যা ইতিহাসে বিরল। তিনি বলেন, “এ ধরনের অভিযান কেবল চরম নৃশংসতার উদাহরণ হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন Awami League সরকারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যা ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ ছিল বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, এই ঘটনার পরই দেশে স্বৈরাচারী শাসনের ভিত্তি আরও মজবুত হয় এবং তার প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে দেশকে বহন করতে হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বহু নেতাকর্মী ওই ঘটনার শিকার হয়েছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের ওই ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যমের ভূমিকাও পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তার মতে, সে সময় সরকারকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা হয়নি; বরং বিভিন্নভাবে বৈধতা প্রদান করা হয়েছিল।
পীর চরমোনাই দাবি করেন, শাপলা চত্বরে নিহতদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা উচিত। পাশাপাশি, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিনটি স্মরণ করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।