ইপেপার / প্রিন্ট
ঐতিহাসিক ও বহুল আলোচিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ Abu Sayeed হত্যা মামলার রায় ঘোষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে International Crimes Tribunal Bangladesh-২ এ রায় পড়া শুরু করেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি Nazrul Islam Chowdhury। তার নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আরও রয়েছেন বিচারক Md. Manjurul Bachhid এবং বিচারক Nur Mohammad Shahriar Kabir।
রায়ের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করছে Bangladesh Television, ফলে সারা দেশের মানুষ তা প্রত্যক্ষ করছেন। দুপুর ১২টায় মামলার গ্রেপ্তার হওয়া ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয় এবং তাদের উপস্থিতিতেই সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শুরু করেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ। অভিযোগ রয়েছে, তারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
অন্যদিকে, মামলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন Begum Rokeya University-এর তৎকালীন ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামানসহ আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
এই মামলাটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারাধীন হওয়ায় এর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নয়, বরং একটি আন্দোলনের ইতিহাস, ন্যায়বিচার এবং দায়বদ্ধতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে।
দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই রায়ের দিকে গভীরভাবে নজর রাখছে। অনেকের প্রত্যাশা, এই রায়ের মাধ্যমে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শক্ত বার্তা যাবে।
এখন সবার চোখ ট্রাইব্যুনালের দিকে—এই রায় কী বার্তা দেয়, সেটিই নির্ধারণ করবে দেশের বিচারিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।