ইপেপার / প্রিন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের আশা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মতির পর আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। তবে চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হিজবুল্লাহ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, যা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট করেছেন যে, আপাতত লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দক্ষিণাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ইরান বরাবরই বলে আসছে, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ না হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তিতে যাবে না। একই সঙ্গে তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, লেবাননে হামলা বৃদ্ধি পেলে তারা সরাসরি হস্তক্ষেপও করতে পারে।
সম্প্রতি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। তবে নতুন যুদ্ধবিরতির খবরে তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহান্তেই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে ইরান শান্তি আলোচনার জন্য কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লেবাননে সংঘাত বন্ধ, ইরানের জ্বালানি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল, তেল আয়ের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ এবং বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার।
মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন এই যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর হবে, তা এখন নির্ভর করছে হিজবুল্লাহ, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।