লাইবেরিয়ার রাষ্ট্রপতি জোসেফ বোয়াকাইয়ের কাছে বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন নাইজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মিয়া মো. মাইনুল কবির। এর মধ্য দিয়ে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নাইজেরিয়ার বাংলাদেশ হাই কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি লাইবেরিয়ার রাজধানীতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তিনি রাষ্ট্রপতি বোয়াকাইয়ের কাছে তার পরিচয়পত্র হস্তান্তর করেন। পরিচয়পত্র পেশের পর উভয়ের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে লাইবেরিয়ার সরকার এবং জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তাকে অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে গ্রহণ করায় লাইবেরিয়ার রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আলোচনায় তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অগ্রগতি এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণকে বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত মিয়া মো. মাইনুল কবির যুদ্ধবিধ্বস্ত লাইবেরিয়ার পুনর্গঠনে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা বাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অবকাঠামো নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্রদূত তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে লাইবেরিয়ার বাজারে এসব পণ্যের প্রবেশ ও সম্প্রসারণে সহযোগিতা কামনা করেন।
এছাড়া কৃষি খাতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি লাইবেরিয়ায় কন্ট্রাক্ট ফার্মিং বা চুক্তিভিত্তিক কৃষি উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব দেন। খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্বব্যাপী নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতি জোসেফ বোয়াকাইকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
জবাবে লাইবেরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানান এবং লাইবেরিয়ায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধিতে আগ্রহের কথা জানান।
রাষ্ট্রপতি বোয়াকাই বলেন, বাংলাদেশ ও লাইবেরিয়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করতে পারে। বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলো তার সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
বৈঠকে লাইবেরিয়ার ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইথেল ডেভিসসহ রাষ্ট্রপতি ভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও লাইবেরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, কৃষি, শান্তিরক্ষা এবং উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হতে পারে।