ইপেপার / প্রিন্ট
বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বকে পারিবারিক উত্তরাধিকারভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “এই দেশ কারো জমিদারি নয়। রাজার ছেলে রাজা হবে—এমন চিন্তাধারা আমরা মানি না।”
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, বাংলাদেশের রাজনীতি আজ অবৈধ সুবিধা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আঁতুরঘরে পরিণত হয়েছে। রাজনীতি ও নেতৃত্ব যেন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পারিবারিক সম্পত্তিতে রূপ নিয়েছে, যা গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি বলেন, “এই দেশ কারো জমিদারি নয়। যোগ্য যে কেউ এদেশের আগামীর নেতৃত্ব দেবে—ইনশাআল্লাহ।” নেতৃত্ব নির্বাচনে বংশ নয়, যোগ্যতা ও সততাই একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দলীয় অবস্থান ও প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামীর এমপিরা রাষ্ট্রের দেওয়া প্লট গ্রহণ করবেন না, বিলাসী সরকারি গাড়ি ব্যবহার করবেন না এবং কোনো বিশেষ সুবিধা নেবেন না। পাশাপাশি এমপিদের ও তাদের পরিবারের সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “লুটের লাইসেন্স গ্রহণ নয়, আমানাত হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনাই হবে আমাদের লক্ষ্য।” জামায়াতের নেতৃত্বে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আসন্ন নির্বাচন সুবিধাবাদীদের জন্য নয়; এটি খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের মুক্তির নির্বাচন। জামায়াত এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে মায়েরা তাদের মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকবে না, যুবসমাজের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হবে না এবং অর্থের বিনিময়ে ন্যায়বিচার বিক্রি হবে না।
তার ভাষায়, সবার মেধা ও যোগ্যতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়াই জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য।