ইপেপার / প্রিন্ট
যাকাত ইসলামের অন্যতম ফরজ ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে যাকাত আদায় করা আবশ্যক। সঠিকভাবে যাকাত আদায় করলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে, আর অবহেলা করলে কঠোর সতর্কবার্তাও এসেছে। যাকাত সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ১০টি প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত ও প্রাসঙ্গিক উত্তর তুলে ধরা হলো—
যে মুসলমান বালেগ, আকিল এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক—তার ওপর পূর্ণ এক হিজরি বছর অতিক্রান্ত হলে যাকাত ফরজ হয়।
নিসাব হলো—
সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ, অথবা
সাড়ে ৫২ তোলা রৌপ্য, অথবা
উক্ত রৌপ্যের সমমূল্যের নগদ অর্থ/ব্যবসায়িক পণ্য,
শর্ত হলো—নিত্যপ্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ হতে হবে এবং এমন ঋণ থাকা যাবে না, যা বাদ দিলে নিসাব পূর্ণ থাকে না।
শুধু স্বর্ণ থাকলে সাড়ে ৭ তোলা পূর্ণ হলে যাকাত ফরজ হবে।
শুধু রৌপ্য থাকলে সাড়ে ৫২ তোলা পূর্ণ হলে ২.৫% যাকাত দিতে হবে।
চাইলে সমমূল্যের নগদ অর্থও দেওয়া বৈধ।
হ্যাঁ। নগদ অর্থ (ক্যাশ বা ব্যাংক ব্যালেন্স) যদি সাড়ে ৫২ তোলা রৌপ্যের বর্তমান মূল্যের সমান বা বেশি হয় এবং এক বছর অতিক্রান্ত হয়, তাহলে ২.৫% যাকাত ফরজ।
শুধু ৩ বা ৫ তোলা স্বর্ণ থাকলে এবং অন্য কোনো সম্পদ না থাকলে যাকাত ফরজ নয়।
তবে স্বর্ণের সঙ্গে নগদ অর্থ বা ব্যবসায়িক পণ্য যোগ হয়ে রৌপ্যের নিসাব পরিমাণে পৌঁছালে যাকাত ফরজ হবে।
হ্যাঁ। স্বর্ণ বা রৌপ্য ব্যবহার্য হোক বা অব্যবহৃত—নিসাব পরিমাণ হলে তার ওপর যাকাত ফরজ।
যারা দরিদ্র এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নয়—তারা যাকাতের উপযুক্ত।
যাকাতদাতার দৃঢ় ধারণা থাকতে হবে যে প্রাপক প্রকৃত হকদার।
মসজিদ, রাস্তা, হাসপাতাল নির্মাণে সরাসরি যাকাত আদায় হবে না, কারণ এতে কোনো ব্যক্তিকে মালিক বানানো হয় না।
তবে দরিদ্র শিক্ষার্থী, অসহায় রোগী বা অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে মালিক বানিয়ে দিলে যাকাত আদায় হবে।
হ্যাঁ, বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ পরিশোধের শর্তে ধাপে ধাপে দেওয়া বৈধ।
চাইলে একজনকেই দেওয়া যাবে, আবার একাধিক ব্যক্তির মাঝে বণ্টনও করা যাবে।
তবে অকারণে কাউকে এত বেশি দেওয়া ঠিক নয়, যাতে সে নিজেই নিসাবধারী হয়ে যায়।
স্বর্ণের ২.৫% সরাসরি স্বর্ণ হিসেবেও দেওয়া যায়।
অথবা ঋণ নিয়ে নগদ পরিশোধ করা, পরে পরিশোধ করা বা বর্তমান বাজারমূল্যে হিসাব করে আদায় করা বৈধ।