ইপেপার / প্রিন্ট
২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর, কিন্তু চ্যালেঞ্জের পরিমাণ কম নয়। দেশে মূল্যস্ফীতি এখনও সহনীয় পর্যায়ে না নামার পাশাপাশি উৎপাদন প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ছে না। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে।
নতুন বাজেটে সরকারের লক্ষ্য থাকবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বস্তি প্রদান করা। এর পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগবান্ধব করনীতি গ্রহণ এবং জনবান্ধব সামাজিক সেবার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে।
গত বছরের একই ছয় মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাজেট বাস্তবায়ন বেড়েছে ৪ শতাংশ, তবে উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় পরিচালন খাতের ব্যয় বেশি হয়েছে। এখানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বেতন-ভাতা, ভর্তুকি এবং ঋণ পরিশোধ।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৫,৫০০ কোটি টাকা, যার বড় অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলেন,
“মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ পর্যায়ে রয়ে গেছে। স্বল্প আয়ের মানুষ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী এর ফলে কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়ছে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ না বাড়লে উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে না, এবং কর্মসংস্থানও সৃষ্ট হবে না।”
নতুন বাজেটে গুরুত্ব থাকবে:
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন,
“১৮ মাসের মধ্যে নতুন করে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই। এক কোটির অর্ধেকও যদি সফল হয়, তাহলে বিনিয়োগ বাড়তে হবে। বিনিয়োগ হতে হবে কর্মসংস্থান বান্ধব। এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জন করতে হলে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৮ শতাংশ হতে হবে, বর্তমানে তা মাত্র ৩.৬৯ শতাংশ।”
নাজুক অবস্থায় রয়েছে দেশের আর্থিক খাত। অভ্যন্তরীণ আয়ে সুখবর নেই। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্যের তুলনায় রাজস্ব আদায় কমেছে ৬০,০০০ কোটি টাকা। বিশাল ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে নতুন বাজেটে দিকনির্দেশনা অত্যন্ত জরুরি।
মুস্তফা কে মুজেরি বলেন,
“আর্থিক খাত যদি সক্ষম না হয়, তাহলে বিনিয়োগ বা ঋণ প্রবাহ, বেসরকারি খাতে উৎপাদন—কোনোটিই সফল হবে না।”
ড. মাহফুজ কবীর আরও যোগ করেন,
“রাজস্ব বোর্ডের পুনর্গঠন এবং কার্যকর বাজেট বাস্তবায়ন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এগুলো ছাড়া পুরো বাজেট কার্যকরভাবে তৈরি ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।”