ইপেপার / প্রিন্ট
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সাভার ও আশুলিয়ায় সংবাদ সংগ্রহে দায়িত্ব পালনকালে ৫ সাংবাদিক পুলিশের গুলিতে ও মারধরের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এখনও তারা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারেননি। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত ২০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
জুলাইয়ের ২০ তারিখ ছাত্রদের উপরে পুলিশের টিয়ারশেল পাদানি গ্যাস ও সরাসরি গুলি করার ভিডিও চিত্র ধারণ করায়, সাভারের থানা রোডে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরেও প্রকাশ্যে ঢাকা জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপারের গাড়ির বহর থেকে গুলি করে।
ঢাকা মহানগর প্রেসক্লাবের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক বর্তমান কথা পত্রিকার মফস্বল সম্পাদক দিদারুল ইসলামকে,তার মাথা পায়ে এবং অন্ডকোষে অন্তত ৪০ টিরও বেশি শট গানের ছড়াগুলি লাগে।
গুলিতে আহত দিদার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে গুলিতে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে নারাজ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তৎকালীন আওয়ামী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ ছিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ সকল মেডিকেল গুলোর উদ্দেশ্যে বলে দেওয়া হয়েছে, পুলিশের গুলিতে আহত কোন ব্যক্তি কে যাতে চিকিৎসা না দেওয়া হয়। দিলেই লাইসেন্স বাতিলসহ ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা। সেই দায়বদ্ধতা থেকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও বেসরকারি প্রাইভেট হাসপাতালগুলো চিকিৎসা দিতে নারাজ ছিলো।
তারপরও কিছু কিছু বেসরকারি প্রাইভেট হাসপাতাল গোপনে চিকিৎসা দিয়েছিলো আহত ব্যক্তিদের। আন্দোলন চলাকালীন সময় চিকিৎসা নেওয়া আহত ব্যক্তিদের এবং নিহতের মৃত্যু সনদ সহ সকল কাগজপত্র বাড়ি বাড়ি গিয়ে তৎকালীন সময়ের সরকারের প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর সহায়তায় গায়েব করে দেয়া হতো।
এমতবস্থায় আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়া সাংবাদিক দিদার মামলার ভয়ে আহত অবস্থায় তিন চার দিন পর সে আবারো কোনরকম কর্মে ফিরেছিলেন।
আবার হঠাৎ করে সাভার পাকিজার মোরে শুরু হয় আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র জনতার ও পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে পুলিশের এলোপাথারি গুলির কবলে পড়ে আবারো গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক দিদার। এতে তার পিঠে সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ১০০ও বেশি শটগানের ছড়া গুলি লাগে।
পুলিশের গুলিতে আহত অবস্থায় সাংবাদিক দিদার কে মাটিতে ফেলে পুলিশের রাইফেল দিয়ে ব্যাপক মার ধোরো লাথি ঘুসি দিয়ে ছাত্র-জনতার উপরে গুলি করার ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজের ক্যামেরা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ।
পরবর্তীতে কোনরকম জীবন বাঁচিয়ে ধামরাই গিয়ে চিকিৎসা নেন সাংবাদিক দিদার।
আন্দোলন চলাকালীন সময় সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলো গুলিবিদ্ধদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে নারাজ ছিল। তখন চলছিল পুলিশের খুব জোরালো অভিযান পুলিশের ভয়ে কোনরকম উপায় না পেয়ে ধামরাইয়ের আলাদিন হাসপাতালে গিয়ে গোপনে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে চিকিৎসা নেন সাংবাদিক দিদার।
তাছাড়াও গত ৫ আগস্ট সকাল ১০টায় সাভার রেডিও কলোনির বাসা থেকে বের হয়ে আল মুসলিম গার্মেন্টের সামনে এলে পুলিশ মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের সাংবাদিক সৈয়দ হাসিবকে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে হাসিবের চোখেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছররা গুলি লেগে গুরুতর আহত হন। হাসিব বলেন, তার আইডি কার্ড ও টেলিভিশনের হ্যান্ড বুম দেখানোর পরও পুলিশ তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে। নিউজ গার্ডেন পত্রিকার সম্পাদক ওমর ফারুককে সাভার দিলখোশা মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পুলিশ গুলি চালায়। ওমর ফারুকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছররা গুলি লাগে। চ্যানেল এসএ টেলিভিশনের সাংবাদিক রাজিব মাহমুদকে সাভারের শিমুলতলা এলাকায় বেধড়ক মারধর করে। তার অপরাধ তিনি পুলিশের অভিযান চলাকালীন সময়ে শিমুলতলা এলাকায় গিয়েছিল। আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও দেশ রূপান্তর পত্রিকার সাংবাদিক খোকা মোহাম্মদকে পুলিশ গুলি করে।