ইপেপার / প্রিন্ট
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ৪৯নওগাঁ-৪ আসনে সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু-র বাসভবনে ‘টর্চার সেল’ এবং বিএনপি নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজনীতি চলছে। একদিকে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, অন্যদিকে এমপির সমর্থক নেতাকর্মীদের পাল্টা বিক্ষোভ ও সমাবেশ—সব মিলিয়ে মান্দার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন ‘বারুদের গন্ধ’যুক্ত।
গত রোববার উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও ভালাইন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ-কে এমপির বাসভবনে নিয়ে যাওয়ার পর নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আজাদের খোঁজ নিতে গিয়ে একাংশ নেতাকর্মীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ইতিপূর্বে উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদল-এর ওপরও হামলার অভিযোগ ছিল।
উপজেলা বিএনপির একাংশ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এমপির বাসভবনে নির্যাতনের বিচার হবে না এবং অভিযুক্তরা গ্রেফতার হবে না, আন্দোলন চলবে। তারা অভিযোগ করেছেন, এমপির অনুসারীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে ডা. ইকরামুল বারী টিপু-এর সমর্থকরাও মাঠ ছাড়তে নারাজ। তারা দাবি তুলেছেন, পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা গল্প সাজিয়ে এমপির সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে। ছাত্রদল ও যুবদল নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রতিহত করা হবে।”
রাজপথে এই দখল-পাল্টা দখলের লড়াইয়ে সবচেয়ে আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। প্রসাদপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীর কারণে তারা দোকান খুলতে ভয় পাচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। মান্দা থানা পুলিশ জানিয়েছেন, কোনো পক্ষকে আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর অবস্থান রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দ্বন্দ্ব কেবল মান্দায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দ্রুত কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ ছাড়া মান্দা বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।