ইপেপার / প্রিন্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাধবী মারমা-এর প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন ছাত্রদলের এক নেত্রী। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে এই আপিল আবেদন জমা দেন চন্দ্রা চাকমা, যিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক।
আপিলের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন, মাধবী মারমা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে আইন অনুযায়ী পদত্যাগ না করেই গত ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তার দাবি, এটি নির্বাচনী আইন ও পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
চন্দ্রা চাকমা জানান, তিনিও একই আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন এবং দল ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে পদত্যাগের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে—পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া ও তা গৃহীত হওয়ার পরই পদ শূন্য বলে গণ্য হয়। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মাধবী মারমা প্রার্থী হয়েছেন বলে অভিযোগ তার।
তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন মাধবী মারমা। তিনি জানান, গত ২০ এপ্রিলই তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং তার পদত্যাগপত্র যথাযথভাবে অনুমোদিত হয়েছে। হলফনামায় পদত্যাগের তথ্য না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত ফরম্যাটে এমন তথ্য দেওয়ার সুযোগ না থাকায় তা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আবুল মনসুর জানিয়েছেন, ২০ এপ্রিল স্বাক্ষরিত মাধবী মারমার পদত্যাগপত্রের ফাইল রোববার তার দপ্তরে পৌঁছেছে।
এখন পুরো বিষয়টি শুনানির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রার্থিতার ভাগ্যই নির্ধারণ করবে না, বরং ভবিষ্যতে এ ধরনের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার জন্য একটি দৃষ্টান্তও স্থাপন করতে পারে।