ইপেপার / প্রিন্ট
গভীর উদ্বেগ ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে ভোলা জেলার এক নৃশংস ঘটনা। নিজের কিশোরী মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত বাবা মো. ইউসুফ–কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ এপ্রিল) ভোরে চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার মাস ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে মেয়েকে ধর্ষণ করে আসছিল অভিযুক্ত। এতে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি গোপন রাখতে তাকে জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটানো হয়।
গর্ভপাতের পর কিশোরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে ৩ এপ্রিল ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল–এ ভর্তি করেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে মো. শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, ঘটনার বিষয়ে জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্তের বাড়ির আঙিনা থেকে গর্ভপাত ঘটানো ভ্রূণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোলা জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী কিশোরীর চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এবং অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।