ইপেপার / প্রিন্ট
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ভুয়া জরিপ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো সম্ভব নয়। জনগণ সব সময় সত্য ও বাস্তবতাকে চিনে এসেছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন–প্রবাসী ও ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদু বলেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আগামী এক–দুই দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। মাত্র তিন সপ্তাহের এই প্রচারণাই নির্ধারণ করবে দেশ কোন পথে অগ্রসর হবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেই দেশকে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিতে হবে। কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস কিংবা ষড়যন্ত্রের রাজনীতির জায়গা দেওয়া যাবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে একটি বয়ান ছড়ানো হচ্ছে যে একটি নির্দিষ্ট দল এবার রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবে, যা তারা দীর্ঘ সময়েও অর্জন করতে পারেনি। এই ধারণা প্রতিষ্ঠার জন্য এখন বিভিন্ন ভুয়া জরিপ প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব জরিপে বিএনপির সঙ্গে ওই দলকে প্রায় সমান অবস্থানে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত জরিপের উদাহরণ টেনে দুদু বলেন, সেখানে দাবি করা হয়েছে বিএনপি ও একটি দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, কারণ তারা রাজপথে আন্দোলন করেছে। এই যুক্তিতে বলা হচ্ছে, ওই দলের ভোট তিন শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। তাহলে কি বিএনপি ঘরে বসে ছিল? বিএনপির নেতৃত্ব টানা ১৭ বছর নির্যাতন সহ্য করেছে, তারেক রহমানকে ১৭ বছর প্রবাসে থাকতে হয়েছে, অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, যদি সত্যিই বিএনপির ভোট ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়ে থাকে, তাহলে আসন সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ৪০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা। এই হিসাবই প্রমাণ করে জরিপগুলো কতটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর।
দুদু বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয়নি। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি কিংবা সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে জনগণ কখনো গ্রহণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। দেশের চলমান সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। নির্বাচন বানচালের যে কোনো চেষ্টা অগণতান্ত্রিক শক্তিকে সুবিধা দেবে, আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ।
সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আবুল কালাম, চালক দলের সভাপতি জসিম উদ্দিন কবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।