যুক্তরাষ্ট্রের Florida অঙ্গরাজ্যের Tampa Bay এলাকায় বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থীকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। University of South Florida-এর শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু নাহিদা বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহ পর Howard Frankland Bridge সংলগ্ন এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনায় তার রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে দুটি ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিমন ও বৃষ্টির সঙ্গে ওই রুমমেটের বসবাস করা অ্যাপার্টমেন্টে বিপুল পরিমাণ রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ বৃষ্টিও হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারেন। তাকে উদ্ধারে এখনও তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ এপ্রিল, যখন সর্বশেষ লিমন ও বৃষ্টিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় দেখা যায়। পরদিন পরিবারের এক পরিচিত ব্যক্তি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পুলিশে নিখোঁজের অভিযোগ করেন। পরে তদন্তকারীরা নতুন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অবস্থাকে ‘বিপদাপন্ন’ হিসেবে ঘোষণা করেন।
শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত আবুঘারবিয়েহকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তিনি একটি কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন, যার কারণে বিশেষ বাহিনী (SWAT) মোতায়েন করতে হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এর আগেও পারিবারিক সহিংসতা, মারধর, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ ছিল। এসব তথ্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—কেন আগেই তাকে নজরদারির আওতায় আনা হয়নি।
নিহত জামিল লিমন ছিলেন একজন মেধাবী গবেষক। তিনি পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন এবং জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে জলাভূমি পর্যবেক্ষণ নিয়ে কাজ করছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে চেয়েছিলেন।
অন্যদিকে নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টিও ছিলেন প্রতিভাবান শিক্ষার্থী। রাসায়নিক প্রকৌশল বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছিলেন তিনি। লিমনের পরিবারের দাবি, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা বিয়ের পরিকল্পনাও করছিলেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার, সহপাঠী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে, এবং বৃষ্টির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না।