ইপেপার / প্রিন্ট
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের উল্লাসে প্যারিসে সহিংসতা, আটক ৪৫
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয়ের আনন্দে যখন প্যারিসজুড়ে উৎসবের আবহ বিরাজ করছিল, তখন সেই উল্লাসের মাঝেই ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা। ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি) দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপ সেরার মুকুট জয়ের পর রাজধানী প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৪৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের পুসকাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নেয় পিএসজি। ম্যাচের শুরুতে আর্সেনাল সমর্থকদের গর্জনে মুখর ছিল স্টেডিয়াম। তবে উসমান দেম্বেলের গুরুত্বপূর্ণ গোল ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে আর্সেনালের এবেরেচি এজে ও গ্যাব্রিয়েল মাগালেসের ব্যর্থতায় জয় নিশ্চিত হয় ফরাসি ক্লাবটির।
এই জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্যারিসের রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার সমর্থক। আর্ক দে ত্রিওম্ফ এবং শ্যাম্প-এলিসিস এলাকায় শুরু হয় আনন্দ মিছিল, আতশবাজি প্রদর্শন এবং উৎসব। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি কিছু স্থানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকটি ছোট গ্রুপ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি দোকানপাটে হামলা চালায় এবং বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি করে। এ সময় একজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে রাজধানীর অষ্টম অ্যারনডিসেমেন্ট এলাকায়, যেখানে একদল ব্যক্তি একটি পুলিশ স্টেশনে হামলার চেষ্টা করে। দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টা পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জনকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্যারিসকে ঘিরে থাকা প্রধান রিং রোড কিছু সময়ের জন্য অবরোধ করে রাখে একদল সমর্থক। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সড়কটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে।
এদিকে একটি বেকারি ও একটি রেস্তোরাঁ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি পিএসজির স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় প্রায় এক হাজার সমর্থক জড়ো হয়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যারিকেড তৈরি করলে সেগুলো অপসারণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ফাইনালের আগেই প্যারিসে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। শহরজুড়ে প্রায় ৮ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। তবুও কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা পুরো উদযাপনকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবল বিজয়ের আনন্দ উদযাপন স্বাভাবিক হলেও তা সহিংসতা ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকিতে পরিণত হওয়া উদ্বেগজনক। পিএসজির ঐতিহাসিক সাফল্যের দিনটি তাই একদিকে যেমন আনন্দের স্মৃতি হয়ে থাকবে, অন্যদিকে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণেও আলোচনায় থাকবে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সহিংসতায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা আরও জোরদার করা হবে।