ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে আঞ্চলিক দলগুলো। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস-এর দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির দখলে চলে যাওয়ার পর দেশটির আঞ্চলিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি কিছুটা ধাক্কা খেলেও জাতীয় রাজনীতিতে দলটি এখনও সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। অপরদিকে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস আসন সংখ্যা বাড়ালেও বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে না। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপিবিরোধী আঞ্চলিক দলগুলোর দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পশ্চিমবঙ্গে। দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপির আসন সংখ্যা ৭৭ থেকে বেড়ে ২০৭-এ পৌঁছেছে। নির্বাচনের পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল নেতাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু-তেও বদলে গেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী আঞ্চলিক দল ডিএমকে ও এআইডিএমকে উভয়ই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। সেখানে নতুন রাজনৈতিক শক্তি টিভিকে কংগ্রেসের সমর্থনে সরকার গঠন করেছে। যদিও বিজেপিবিরোধী রাজনীতিতে নতুন দলটির ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বর্তমানে ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যে বিজেপি এককভাবে অথবা জোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ-এ তেলুগু দেশম পার্টি এবং বিহার-এ জনতা দল ইউনাইটেডের সঙ্গে জোট করে সরকার পরিচালনা করছে বিজেপি। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ও আম আদমি পার্টির মতো কয়েকটি আঞ্চলিক দল এখনও কিছু রাজ্যে ক্ষমতায় থাকলেও তাদের প্রভাব আগের তুলনায় কমেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের রাজনীতি ধীরে ধীরে দুই মেরুতে বিভক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে—একদিকে বিজেপি, অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর বিরোধী জোট। তবে অনেকের মতে, আঞ্চলিক দলগুলোর রাজনীতি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য মনে করেন, তৃণমূল বা ডিএমকের মতো দলগুলো হারলেও আঞ্চলিক রাজনীতির গুরুত্ব এখনও শেষ হয়নি। বরং বিজেপিবিরোধী বৃহত্তর জোট রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলোর ক্ষয়ের পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ রয়েছে। তবে বিজেপির বিরুদ্ধে টিকে থাকতে হলে কংগ্রেস ও আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে আরও সমন্বিত রাজনৈতিক জোট গড়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের ভবিষ্যৎ রাজনীতি এখন নির্ভর করবে বিজেপিবিরোধী শক্তিগুলো কতটা কার্যকরভাবে ঐক্য গড়ে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান নতুন বাস্তবতায় কতটা মানিয়ে নিতে সক্ষম হয় তার ওপর।