ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে সরকার ঘোষিত দুই মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকলেও তা উপেক্ষা করে ইলিশ ধরার মহোৎসবে মেতেছেন অসাধু জেলেরা। বিশেষ করে আসন্ন পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বাড়তি দামের লোভে নদীতে নেমেছেন তারা।
সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী ইলিশা চরের মাথা, তুলাতুলি ও ভোলারখাল এলাকায় দেখা যায়, শত শত ট্রলার ও জাল নিয়ে জেলেরা নদীতে মাছ ধরছেন। কোথাও জাল ফেলা হচ্ছে, কোথাও টেনে তোলা হচ্ছে মাছ। কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই এসব ইলিশ নদীর তীরবর্তী আড়ত ও বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে।
শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, আড়তদার ও বেপারীদের মাধ্যমে এসব মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। চাহিদা বেশি থাকায় দামও আকাশছোঁয়া।
জেলেরা জানান, গত ১ মার্চ থেকে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা দীর্ঘদিন কর্মহীন ছিলেন। সরকারের দেওয়া সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে। তাই পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে অতিরিক্ত আয়ের আশায় তারা ঝুঁকি নিয়েই নদীতে নামছেন।
জেলে লিটন মাঝি, সেরাজুল মাঝি, সোহাগ মাঝি ও রাকিব মাঝি বলেন, “এতোদিন ঘরে বসে ছিলাম, খাবার ছিল না। সামনে বৈশাখ, ইলিশের দাম বেশি—তাই বাধ্য হয়েই নদীতে গিয়েছি।”
অন্যদিকে আড়তে মাছ বিক্রি করা জেলেরা জানান, ইলিশের দাম বেশি হওয়ায় তুলনামূলক ভালো লাভ হচ্ছে। তবে প্রশাসনের অভিযানের ঝুঁকি সবসময় থাকছে।
আড়তদাররা জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের চাহিদা বেশি থাকলেও সরবরাহ কম। ফলে প্রতি কেজি ইলিশ ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ টাকায় এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৭০০ টাকায়।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীতে নিয়মিত টহল ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, “আইন অমান্য করে কেউ ইলিশ শিকার করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে গত ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩০ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ সময় ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে।