ইপেপার / প্রিন্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সর্বাধিক সমর্থনপ্রাপ্ত দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত চিঠি ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র জানায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিজয়ী দলের নির্বাচনী ইশতেহার এখন জাতীয় পর্যায়ের প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হয়েছে। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সমন্বিত ও কাঠামোবদ্ধ উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ৫১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নিজ নিজ দায়িত্বাধীন খাত অনুযায়ী নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকারগুলো চিহ্নিত করে তিনটি ধাপে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নযোগ্য কর্মসূচি, মধ্যমেয়াদে কাঠামোগত সংস্কার ও নীতিগত পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময়সীমা, প্রয়োজনীয় বাজেট, মানবসম্পদ ও আইনগত পরিবর্তনের বিষয়েও সুস্পষ্ট প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনী অঙ্গীকারকে জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অধিক সমন্বয় আসবে। এতে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প নির্ধারণ, সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং জবাবদিহিতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। পরে সেগুলো পর্যালোচনা করে সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।