ইপেপার / প্রিন্ট
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশকে দুর্নীতি থেকে বের করে আনার বাস্তব অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপিরই আছে। তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি যখন জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করে, তখন বিএনপি ও বাংলাদেশের গায়ে দুর্নীতির তকমা ছিল। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার সময় দেশকে সেই দুর্নীতির তকমা থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাসাবো তরুণ সংঘ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-৯ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবের সমর্থনে এ পথসভার আয়োজন করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছরে দেশে যে মাত্রার দুর্নীতি হয়েছে, তা থেকে দেশকে বের করে আনতে হলে বিএনপির মতো অভিজ্ঞ দল প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিএনপি অতীতেও প্রমাণ করেছে যে কীভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হয়।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার সরকার আমলেই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন করা হয়েছিল এবং সেটিকে শতভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। দুদককে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির তদন্তে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সাহসের কারণেই দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছে বলে তিনি দাবি করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন ছিল তা মুক্তিযোদ্ধারাই ভালো জানেন। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। একইভাবে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে এনে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল।
তিনি বলেন, সে সময় নারীরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারতেন, ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পেরেছেন। অর্থাৎ দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিএনপির কার্যকর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে দেশ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা বিএনপিরই আছে। দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হলে সুপরিকল্পিত কর্মসূচি প্রয়োজন, যা বিএনপির রয়েছে।
পথসভায় তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সংশ্লিষ্ট এলাকার রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট ও হাসপাতাল নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।