মাত্র দুই ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতায় প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে। ডুবে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে পৌরসভার ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসংলগ্ন পল্লীবিদ্যুৎ, হরিণহাটি, বিশ্বাসপাড়া, ডাইনকিনি, হরতকিতলা ও মাইওয়ান মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সড়কে পানি জমে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই প্রতিবছর একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাদের। অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। শিশু, বয়স্ক ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রক্ষায় ব্যস্ত সময় পার করছে।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আল রাজীব বলেন, বৃষ্টি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির চারপাশ পানিতে ডুবে যায়। সব সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় কর্মস্থলে যেতে পারেননি তিনি। বছরের পর বছর এমন দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জলাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাজার ও দোকানে পানি ঢুকে অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, সকালে দোকানে এসে দেখেন ভেতরে পানি ঢুকে পণ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লাখ টাকা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
বিশ্বাসপাড়া এলাকার পোশাকশ্রমিক হাফিজা খাতুন বলেন, রান্নাঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের খাবার প্রস্তুত করাও সম্ভব হচ্ছে না। ঘরের জিনিসপত্র রক্ষার চেষ্টায় সকাল থেকেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে তাদের।
শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, সড়ক ডুবে যাওয়ায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে কয়েকটি পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে জলাবদ্ধতার সঙ্গে কিছু এলাকায় ডাইং কারখানার দূষিত পানি ও আবর্জনা মিশে যাওয়ায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, পৌরসভার খাল ও ড্রেনগুলোর পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সরানো সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে এবং ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও ড্রেন পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল দখল ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে প্রতি বর্ষায় একই চিত্র দেখা যায়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।