তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোর এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
রোববার (৩১ মে) বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই তামাক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে। দেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)-এ স্বাক্ষর করে এবং পরবর্তীতে তা অনুসমর্থন করে। একই ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন এবং পরবর্তীতে আইনটি আরও শক্তিশালী করতে সংশোধনী আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, তামাকে থাকা নিকোটিন মানুষের মধ্যে মারাত্মক আসক্তি তৈরি করে। বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা, গুলসহ সব ধরনের তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার এবং দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
শিশু-কিশোরদের তামাকের প্রলোভন থেকে দূরে রাখতে সরকার ইতোমধ্যে তামাকজাত পণ্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও বিপণন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইন্টারনেট, মোবাইল অ্যাপ, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, নাটক ও চলচ্চিত্রসহ সব ধরনের মাধ্যমে তামাকের প্রচারণা বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কোম্পানিগুলোর প্রচার কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা ও শাস্তির পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।
বাণীতে তিনি বলেন, নতুন বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন, কঠোর নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে এবং এসব রোগের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কারণ তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার। এছাড়া The Tobacco Atlas-এর ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্য ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবেশগত ক্ষতি এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ বিভিন্ন কারণে তামাক ব্যবহারের ফলে দেশের অর্থনীতিতে বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগ, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।