ইপেপার / প্রিন্ট
ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে রাজধানীর ঢাকা-৫ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে ভোটারদের অভিযোগ, অনেক কেন্দ্রে ভোটের গতি খুব ধীর হওয়ায় দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
রাজধানীর ডেমরার হাজী মোয়াজ্জেম উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট চারটি কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে পুরুষদের জন্য দুটি এবং মহিলাদের জন্য দুটি কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৯,১৮৩ জন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২,৭১০ জন ভোট দিয়েছেন, যা মোট ভোটের প্রায় ৩০ শতাংশ। ভোট দিতে আসা ষাটোর্ধ্ব মো. আব্দুর রহমান বলেন, “আমি এবং আমার স্ত্রী একসঙ্গে ভোট দিতে এসেছি। আমার ভোট শেষ হয়েছে অনেকক্ষণ ধরে, এখন স্ত্রীর জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ভোট নেওয়া হচ্ছে খুব ধীরগতিতে।”
হাজী মোয়াজ্জেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার মো. আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, “ভোট দ্রুত নেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। ভোটারদের চাপের কারণে আমাদের অফিসাররা ক্লান্ত, মাঝে মাঝে আমি নিজে সাহায্য করছি।”
উত্তর যাত্রাবাড়ীর মাদ্রাসা মোহাম্মদিয়া আরাবিয়া কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩,৩৫৫ জন। এই কেন্দ্রে সকাল ১১:৩০ পর্যন্ত ৭০০ জন ভোট দিয়েছেন। কেন্দ্রে ভোটাররা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকায় ধীরগতির অভিযোগ তুলেছেন। প্রিজাইডিং অফিসার এবিএম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ছয়টি বুথের মাধ্যমে আমরা ভোট গ্রহণ করছি। প্রত্যেকটি বুথের অফিসার সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছে। কেউ বসে নেই।”
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-৫ আসনে মোট ১৫০টি কেন্দ্র এবং ৭৮১টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৪,১৯,৯৯৬ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,১৪,৫৯৪ এবং নারী ভোটার ২,০৫,৩৯৭ জন।
এ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূল লড়াইয়ের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন মোহাম্মদ কামাল হোসেন (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) – দাঁড়িপাল্লা, মো. নবী উল্লাহ নবী (বিএনপি) – ধানের শীষ, এবং হাজী মো. ইবরাহীম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) – হাতপাখা। অন্যান্য প্রার্থী ও তাদের প্রতীক হলো তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা (কাস্তে), সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (ট্রাক), মীর আব্দুস সবুর (লাঙ্গল), মো. গোলাম আজম (আনারস), মো. তাইফুর রহমান রাহী (ছড়ি), শাহিনুর আক্তার সুমি (কাচি), মো. হুমায়ূন কবির (ছাতা) এবং মো. সাইফুল আলম (ডাব)।
বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনের মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে বুথে অফিসারের সংখ্যা সীমিত থাকা, ভোটার সংখ্যা বেশি হওয়া এবং কেন্দ্রে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধীরগতি। প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে দ্রুত ভোট গ্রহণের জন্য এবং ভোটারদের দীর্ঘ লাইনের সমস্যা সমাধানের জন্য।”
সংক্ষেপে, ঢাকা-৫ আসনে ভোট শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু কেন্দ্রে ধীরগতির কারণে ভোটাররা অসন্তুষ্ট এবং সারি দীর্ঘ হওয়ায় ভোটগ্রহণে ঝামেলা দেখা দিয়েছে।