ইপেপার / প্রিন্ট
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ১৮ অক্টোবর দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশের ব্যবসায়ি এবং রপ্তানিকারক সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগুনে পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন খাতের আমদানি ও রপ্তানি পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়িক নেতারা জানিয়েছেন, সরাসরি ক্ষতির পাশাপাশি রপ্তানি আদেশ বাতিল, কাঁচামাল না পাওয়া এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের একাধিক ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও ব্যবসায়ীরা সতর্ক রয়েছেন, কারণ কার্গোতে থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ পণ্য অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের কারণে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে সাময়িক ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক চাহিদা ও ব্যবসায়িক চুক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে, যা ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা প্রদানের সুপারিশ করবে। ব্যবসায়ী নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বিন্যাসের ব্যবস্থা করবে।
এই অগ্নিকাণ্ডকে শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং প্রশাসনিক ত্রুটি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিছু ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইতিমধ্যেই এটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং সম্পূর্ণ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা দেশের রপ্তানি খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য দ্রুত পুনরুদ্ধার না হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এদিকে, ব্যবসায়ীরা সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি ঝুঁকি কমাতে বিকল্প বন্দরের ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।
এই অগ্নিকাণ্ড দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যেখানে পোশাক খাত দেশের রপ্তানিতে মুখ্য ভূমিকা রাখে। ব্যবসায়িক নেতারা আশা করছেন, দ্রুত সহায়তা এবং কার্যকর পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ক্ষতি সীমিত করা সম্ভব হবে।