প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল ও আপিল ট্রাইবুনালে রায় পাওয়া চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যরা পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে Bangladesh Police-এর সদর দপ্তরের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন ভুক্তভোগী সাবেক পুলিশ সদস্যরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় তুচ্ছ ও সামান্য কারণ দেখিয়ে তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা প্রশাসনিক ট্রাইবুনালে মামলা করে ন্যায়বিচার পান এবং পরবর্তীতে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবুনালেও সেই রায় বহাল থাকে।
চাকরিচ্যুত সাব-ইন্সপেক্টর জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, আদালতে রায় পাওয়ার পরও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। বরং বিষয়টি আবার উচ্চ আদালতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশ বা স্ট্যাটাস দেওয়ার মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতে চাকরি হারিয়ে তারা আর্থিক ও সামাজিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন।
বক্তারা জানান, প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল (জজ কোর্ট সমমান) এবং প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবুনাল (হাইকোর্ট সমমান) তাদের পক্ষে রায় দিলেও তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হচ্ছে। বরং ‘সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল’ (সিপিএল) করে বিষয়টি Supreme Court of Bangladesh-এ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পেতে ৭ থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, এর আগে একই ধরনের মামলার রায়ের ভিত্তিতে ১৩০ থেকে ১৫০ জন পুলিশ সদস্যকে পুনর্বহাল করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে একই রায় থাকা সত্ত্বেও আরও কয়েকশ সদস্যকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
তারা বৈষম্য দূর করে দ্রুত রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আদালতের নির্দেশনা মেনে তাদের কাজে ফিরিয়ে নেওয়া হোক।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতেও আইনানুগ পন্থায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।