ইপেপার / প্রিন্ট
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব ক্রমশই বিভিন্ন খাতে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে, আর এরই প্রেক্ষাপটে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে সরকার। জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আংশিক অনলাইন পাঠদান চালুর একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত দেশের মহানগর এলাকায় অবস্থিত স্কুল ও কলেজগুলোতে সপ্তাহে ৬ দিনের ক্লাস রুটিনে পরিবর্তন আনার চিন্তা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সপ্তাহে ৩ দিন শিক্ষার্থীরা সশরীরে ক্লাসে অংশ নেবে এবং বাকি ৩ দিন অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম চলবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সাশ্রয় সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে অনলাইন ক্লাস চালু হলেও শিক্ষকদের জন্য উপস্থিতি বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানেই উপস্থিত থেকে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করবেন, যাতে পাঠদানের মান বজায় থাকে এবং শিক্ষার্থীরা সরাসরি নির্দেশনা পেতে পারে। এছাড়া, যেসব বিষয় ব্যবহারিক বা ল্যাবভিত্তিক, সেগুলোর ক্লাস সম্পূর্ণভাবে সশরীরে পরিচালিত হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি হাইব্রিড শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলতেও সহায়ক হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, ইন্টারনেট সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
উল্লেখ্য, এর আগে করোনা মহামারির সময় দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছিল। যদিও সেই সময় নানা সীমাবদ্ধতা ছিল, তবুও তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল রূপান্তরের দিকে এগিয়ে নেয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে আরও সংগঠিতভাবে অনলাইন ও অফলাইন শিক্ষার সমন্বয় করার পরিকল্পনা করছে সরকার।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবেলায় বিশ্বের অনেক দেশই বিকল্প ও সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বাংলাদেশের এই উদ্যোগও সেই বৈশ্বিক প্রবণতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব কতটা চূড়ান্ত রূপ পায় এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কী ধরনের নির্দেশনা ও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক—সবার দৃষ্টি এখন সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে।