ইপেপার / প্রিন্ট
ঢাকা-৭ আসনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হাজী হাফেজ এনায়েত উল্লাহর নির্বাচনী সমাবেশ থেকে অস্ত্রসহ দুইজনকে আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে ঘটনাটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এবং সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পরপরই ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তার দাবি, ফ্যাসিবাদবিরোধী ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের লক্ষ্য করেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট বানচাল করতে দুটি শক্তি গোপন আঁতাতে লিপ্ত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জাতির প্রত্যাশিত নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান আব্দুস সবুর ফকির। তিনি বলেন, কোনো প্রহসনের বা ইঞ্জিনিয়ারিং নির্বাচন জাতি মেনে নেবে না। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ঢাকা-৭ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হাজী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ জানান, ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত তার নির্বাচনী সমাবেশে আওয়ামী লীগের লোগো সংবলিত গেঞ্জি পরিহিত একজনসহ তিনজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘোরাঘুরি করছিল। সন্দেহজনক আচরণের কারণে তার দেহরক্ষীরা তাদের মধ্যে দুজনকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, সন্দেহভাজন অপর একজন পিস্তলসহ পালিয়ে যায়। আটক দুইজনকে পরবর্তীতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।