ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম রাজধানীর জলাবদ্ধতা ও মশা নিয়ন্ত্রণে সব রাজনৈতিক দল ও নগরবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তন-এ নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ঢাকায় বৃষ্টি ভোগায় কেন?’ শীর্ষক নগর সংলাপে তিনি এ আহ্বান জানান।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীকে একটি মানসম্মত ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, “সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই ঢাকাকে বিশ্বের অন্যতম দূষিত, আবর্জনাপূর্ণ ও মশাবাহিত রোগপ্রবণ শহর হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু জনগণ যদি ৫০ শতাংশ দায়িত্ব নেয় এবং সরকার ও সিটি করপোরেশন বাকি ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করে, তাহলে এই পরিস্থিতি পরিবর্তন সম্ভব।”
মশা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, জলাবদ্ধতা দূর করতে পারলে প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তার মতে, অধিকাংশ মশার জন্ম জলাবদ্ধ পরিবেশে হয়। তাই ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পানি জমে থাকার সমস্যা সমাধান জরুরি।
তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে প্রথমবারের মতো প্রাক-বর্ষা লার্ভা নিধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমে ৩৬ জন মাঠকর্মী প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে লার্ভার নমুনা সংগ্রহ করছেন। প্রায় ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করা হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি বা এলিফ্যান্ট রোড এলাকার পানি অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। দীর্ঘমেয়াদে এসব পানি বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীতে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারপ্রধানকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংলাপে বক্তারা বলেন, ঢাকার জলাবদ্ধতা ও মশা সমস্যার সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি।
ড. আলী আফজাল বলেন, একসময় ঢাকায় প্রায় ৫০টি খাল ও লেক ছিল, কিন্তু এখন সেগুলোর অনেকই হারিয়ে গেছে। ফলে জলাবদ্ধতা বাড়ছে এবং একক কোনো সংস্থার পক্ষে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।
ড. কবিরুল বাশার বলেন, শুধুমাত্র কীটনাশক ব্যবহার করে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। পরিবেশ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মশার বংশবিস্তার রোধ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সহ-সভাপতি শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডি একেএম শহিদ উদ্দিন, বায়ুমণ্ডলী দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার এবং স্থপতি খালিদ মাহমুদ শাহীনসহ নগর পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ।