রাজধানীতে আবাসিক গ্যাস গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের সংকট এবং ব্যবহারভিত্তিক বিল ব্যবস্থার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, নিয়মিত গ্যাস না পেলেও প্রতি মাসে নির্ধারিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা তাদের কাছে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক বলে মনে হচ্ছে।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘সচেতন জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন এলাকার আবাসিক গ্যাস গ্রাহকরা অংশ নেন। কর্মসূচি থেকে দ্রুত প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন এবং প্রকৃত ব্যবহার অনুযায়ী বিল নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, বর্তমান ফ্ল্যাট-রেট পদ্ধতিতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকুক বা না থাকুক, গ্রাহকদের নির্দিষ্ট পরিমাণ বিল পরিশোধ করতে হয়। অনেক সময় দিনের পর দিন পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকলেও মাস শেষে একই পরিমাণ বিল গুনতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ গ্রাহকরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ব্যবহারভিত্তিক বিলিং ব্যবস্থা চালু হলে গ্রাহকরা যতটুকু গ্যাস ব্যবহার করবেন, কেবল ততটুকুরই মূল্য পরিশোধ করবেন। এতে একদিকে যেমন গ্রাহকদের ওপর অযাচিত আর্থিক চাপ কমবে, অন্যদিকে গ্যাসের অপচয়ও হ্রাস পাবে।
আয়োজকরা তাদের দাবির মধ্যে উল্লেখ করেন—আবাসিক খাতে দ্রুত প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন, গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিল আদায় বন্ধ, অবৈধ সংযোগ ও গ্যাস চুরি রোধ, জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা এবং স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তাদের মতে, প্রি-পেইড মিটার চালু হলে বিল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে, বকেয়া বিলের ঝামেলা কমবে এবং গ্রাহকরা সহজেই মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে রিচার্জ করতে পারবেন। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতেও এ ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
মানববন্ধনে উপস্থিত গ্রাহক প্রতিনিধিরা বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়; বরং ন্যায্য সেবা ও ন্যায্য বিল নিশ্চিত করার দাবি থেকেই এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তারা দ্রুত দেশের সব আবাসিক গ্যাস সংযোগে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে গ্রাহকদের পক্ষে সজল আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, হৃদয় আহমেদ, মনির হোসেনসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন। তারা বলেন, গ্যাস সেবায় জবাবদিহিতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত হলে গ্রাহক যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি জাতীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও সম্ভব হবে।