ইপেপার / প্রিন্ট
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এবার কুয়েত–এ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান, যার ফলে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
সর্বশেষ হামলায় একটি পানি শোধনাগার এবং একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে, যা দেশটির জ্বালানি পরিস্থিতিকে আরও চাপে ফেলতে পারে।
এর আগে একই ধরনের হামলায় একটি তেল কমপ্লেক্স এবং সরকারি মন্ত্রণালয় ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তেল স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফাতিমা আব্বাস জোহার হায়াত এই হামলাকে “অপরাধমূলক আগ্রাসন” হিসেবে উল্লেখ করে জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে শুরু হলেও এখন ইরান ধীরে ধীরে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার মাত্রা বাড়াচ্ছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সম্প্রতি কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ জ্বালানি ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও এই উত্তেজনারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলা–এর পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে থাকে। ওই ঘটনার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত–এর পাশাপাশি কুয়েতেও হামলার সংখ্যা বেড়েছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম The Guardian এবং Al Jazeera জানিয়েছে, এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।