ইপেপার / প্রিন্ট
২০০৭ সালের বহুল আলোচিত বাংলাদেশের ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন-কে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে সাম্প্রতিক তদন্ত। দুই অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা—মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মামুন খালেদ—কে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তৎকালীন রাজনৈতিক পটভূমি ও ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, ২৩ ও ২৫ মার্চ পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে, ২০০৭ সালের রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ-এর নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সরিয়ে নতুন কাঠামোর সরকার গঠনের উদ্যোগটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং সমন্বিত।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে ড. ফখরুদ্দীন আহমদ-এর নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যেখানে সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ওই সময় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল। এমনকি অনেক সিদ্ধান্তের খসড়া সামরিক মহল থেকেই প্রস্তুত হতো বলে দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়েও সেনা কর্মকর্তাদের ভূমিকা ছিল বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া দুই প্রধান রাজনৈতিক নেতা—খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা—কে নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোতেও প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এমনকি তাদের গ্রেপ্তারের আগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কিছু রাষ্ট্রকে অবহিত করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের কিছু কর্মকর্তা কারাগারে গিয়ে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা চালাতেন। এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস নিয়ে আলোচনা হতো বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি তালিকাও তদন্তে সামনে এসেছে বলে জানা গেছে। এতে সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (চাকরিচ্যুত) চৌধুরী ফজলুল বারী-সহ আরও কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির নাম রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে নজরদারি কার্যক্রম, টেলিযোগাযোগ মনিটরিং ব্যবস্থার বিস্তার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তাকে ন্যাশনাল মনিটরিং কাঠামোর অন্যতম নীতিনির্ধারক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।