ইপেপার / প্রিন্ট
ঐতিহাসিক ইউরোপ সফরে বাংলাদেশ ফুটবল দল, সান মারিনোর বিপক্ষে জয়ের প্রত্যাশা
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। দেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপের মাটিতে কোনো ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচকে সামনে রেখে জাতীয় দল আজ সান মারিনোর উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছে।
রোববার দুপুরে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন জামাল ভূঁইয়ারা। এই সফরকে ঘিরে দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
দেশ ছাড়ার আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ দল প্রথমবারের মতো ইউরোপে খেলতে যাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত। আমরা সবাই খুবই উচ্ছ্বসিত এবং দেশের মানুষের জন্য একটি ভালো ফল নিয়ে ফিরতে চাই। সান মারিনোর বিপক্ষে জয় পেলে সেটি হবে ঈদের বিশেষ উপহার।”
ফিফা র্যাংকিংয়ে সান মারিনো বর্তমানে ২১১তম অবস্থানে রয়েছে, যা তালিকার সর্বশেষ স্থান। অন্যদিকে বাংলাদেশ রয়েছে তাদের চেয়ে প্রায় ৩০ ধাপ এগিয়ে। তবে শুধুমাত্র র্যাংকিং দেখে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তপু বর্মণ।
তিনি বলেন, “র্যাংকিংয়ে তারা পিছিয়ে থাকলেও তাদের অনেক খেলোয়াড় ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলে। এছাড়া নিয়মিত ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাদের। তাই ম্যাচটি মোটেও সহজ হবে না। আমরা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।”
বাংলাদেশ দলের নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে এই সফরকে ঘিরে ফুটবলারদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা কাজ করছে। কানাডা প্রবাসী মিডফিল্ডার কাজেম শাহ, যিনি আগের কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার সময় জাতীয় দলে অভিষেক করেছিলেন, নতুন কোচের অধীনে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করার সুযোগ দেখছেন।
কাজেম শাহ বলেন, “থমাস ডুলির কাজের ধরণ কিছুটা আলাদা। তিনি কৌশলগত দিক নিয়ে অনেক বেশি কাজ করেন। পাসিং ফুটবলকে গুরুত্ব দেন এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে খুব সহজভাবে মিশে যান। তার অধীনে কাজ করতে ভালো লাগছে।”
বাংলাদেশ দলের যাত্রাপথও বেশ দীর্ঘ। প্রথমে তারা ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় পৌঁছাবে। সেখান থেকে ইতালির রাজধানী রোমে যাবে দল। পরে রোম থেকে সড়কপথে বা অন্য ব্যবস্থায় সান মারিনোতে পৌঁছাবে জাতীয় দলের সদস্যরা।
দলের সঙ্গে পরবর্তীতে যোগ দেবেন প্রবাসী ফুটবলার হামজা, সামিত এবং জায়ান। তারা আগামী ২ জুন দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে তপু বর্মণ বলেন, “তারা একটু পরে আসলেও কোনো সমস্যা হবে না। আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলছি এবং দলের মধ্যে বোঝাপড়া অনেক ভালো। আশা করছি সবাই দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে।”
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধুমাত্র একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ নয়; বরং বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। ইউরোপের পরিবেশ, মাঠ এবং প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে জাতীয় দলের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে উঠতে যাচ্ছে। এখন সমর্থকদের অপেক্ষা মাঠের লড়াইয়ে জামাল-তপুদের পারফরম্যান্স দেখার।