ইপেপার / প্রিন্ট
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর আশপাশের খামারগুলোতে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত আল-মদিনা ক্যাটল ফার্ম ঘুরে দেখা গেছে, খামারটিতে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে লাইভ ওয়েট বা জীবন্ত ওজন অনুযায়ী প্রতি কেজি গরুর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৮০ টাকা।
খামার সূত্রে জানা গেছে, এখানে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন জাতের গরু ও মহিষ রয়েছে। এর মধ্যে শাহীওয়াল, দেশাল, অ্যালবিনো, নেপালি, ভুট্টি গরু এবং কালো মহিষের চাহিদা বেশি। খামারে এক লাখ টাকার নিচের গরু থেকে শুরু করে ২০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের পশুও রয়েছে।
খামারের ম্যানেজার আরিফ হোসেন রাজিব জানান, বর্তমানে ফার্মে ৩০০ থেকে ৩৫০টি গরু ও মহিষ রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকার মধ্যে থাকা গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি ছিল এবং এসব গরুর বেশিরভাগই শেষ হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, যারা আগাম বুকিং দিচ্ছেন, তাদের কাছ থেকে ৫০ শতাংশ অগ্রিম নেওয়া হচ্ছে। ঈদের আগে ক্রেতার সুবিধামতো সময়েই পশু সরবরাহ করা হবে। তবে পরিবহন খরচ আলাদাভাবে বহন করতে হবে।
গরু কিনতে আসা অনেক ক্রেতাই জানিয়েছেন, বড় আকারের গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি গরু তাদের কাছে বেশি সুবিধাজনক। কারণ বড় গরু জবাই ও ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত খরচ ও শ্রম লাগে।
শ্যামলী থেকে আসা এক ক্রেতা বলেন, তার বাজেট এক লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে। কিন্তু ছোট গরুর দামও এবার তুলনামূলক বেশি মনে হচ্ছে। অন্য এক ক্রেতা জানান, পরিবার ও কসাইয়ের সক্ষমতা বিবেচনায় তিনি ছোট আকারের গরুই কিনতে চান।
খামারগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও ভিড় দেখা গেছে। তারা জানান, হাটের ভিড় ও ময়লা এড়িয়ে ফার্মে এসে গরুর দাম ও আকার সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন।