ভোটার তালিকা ও নির্বাচনি তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তা জোরদারে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রায় ৫০০ কোটি টাকার অবকাঠামো প্রকল্প অনুমোদন দেয়নি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রস্তাবিত প্রকল্পটির নাম ছিল—‘নির্বাচনি ডাটাবেজের জন্য উপজেলা/থানা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণ’। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৯২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় একটি আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, তিনটি জেলা নির্বাচন অফিস এবং ৪৫টি উপজেলা পর্যায়ের সার্ভার স্টেশন ও নির্বাচন অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এছাড়া মেট্রোপলিটন থানাগুলোর জন্য ফ্লোর-স্পেস কেনার প্রস্তাবও ছিল।
নির্বাচন কমিশনের দাবি ছিল, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার ডেটাবেজের নিরাপত্তা বাড়ানো, ইভিএম, ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম সংরক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ের সেবা আরও গতিশীল করতেই এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
তবে একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী সরকারি অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন দপ্তরের জন্য আলাদা ভবন না করে সমন্বিত সরকারি কমপ্লেক্স নির্মাণ করা উচিত, যাতে নাগরিকরা এক জায়গা থেকেই সব সেবা পান।
ডেটা সেন্টার ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি তথ্যভান্ডার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে না রেখে একটি নির্দিষ্ট ও সুরক্ষিত স্থানে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পটি পুনর্গঠন করে পরে আবার উপস্থাপন করা হতে পারে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আধুনিক নির্বাচন অফিস ও সার্ভার অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একনেকের পর্যবেক্ষণের ফলে ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী প্রকল্প প্রস্তাব আসতে পারে।