সব ধরনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ নম্বর সদস্য হিসেবে নুসরাত তাবাসসুম-কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (৫ মে) এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।
ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আদালতের নির্দেশনার পর তার মনোনয়ন বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। সংরক্ষিত নারী আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই আসনটি ঘিরে আগে থেকেই নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর শূন্যতা তৈরি হয়। সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল করে ইসি।
এরপর নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে ১৯ মিনিট পর মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে নুসরাত তাবাসসুমের আবেদন গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হলে হাইকোর্ট তার মনোনয়ন গ্রহণ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আদালতের সেই নির্দেশনার পর ইসি তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। অন্যদিকে, নিজের প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনিরা শারমিন পুনরায় রিট দায়ের করে গেজেট প্রকাশ স্থগিতের আবেদন জানান। তবে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের একজন বিচারপতির সঙ্গে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতার কারণে আদালত রিটটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করে এবং অন্য বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়।
এই পরিস্থিতিতে কোনো স্থগিতাদেশ না থাকায় ইসি নুসরাত তাবাসসুমকে বৈধভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। ফলে তিনি এখন সংরক্ষিত নারী আসনের বৈধ সংসদ সদস্য।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আসন বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা ১টি সংরক্ষিত নারী আসন পেয়েছে। এর আগে বাকি ৪৯টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে শপথ নেন। নুসরাত তাবাসসুমের গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া শেষ হলো।