ইপেপার / প্রিন্ট
চট্টগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ডিসি হিল দীর্ঘদিন ধরে নগরবাসীর প্রাতভ্রমণ ও অবসর কাটানোর অন্যতম জনপ্রিয় স্থান। নন্দনকানন বৌদ্ধ মন্দির সড়কের পাশে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ে প্রতিদিন সকাল, বিকেল ও সন্ধ্যায় নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে পরিবেশ। তবে দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংস্কার ও পরিচর্যার অভাবে ডিসি হিলের সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ ছিল নিয়মিত প্রাতভ্রমণকারীদের।
নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সরকারি বাসভবন পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত হওয়ায় বিষয়টি তার নজরে আসে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি ডিসি হিলের পরিবেশ উন্নয়নে প্রাথমিক সংস্কারের উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে এই জায়গাটিকে আরও নান্দনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রাথমিক সংস্কারের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ডিসি হিলের বিভিন্ন অবকাঠামোতে নতুন করে সাদা ও লাল রঙ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও আলোকসজ্জা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়। ছোট পরিসরের এই উদ্যোগেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে ডিসি হিলে।
ডিসি হিলের পরিবেশে প্রাণ ফেরানোর এই উদ্যোগে ভীষণ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিয়মিত প্রাতভ্রমণে আসা বিভিন্ন সামাজিক ও প্রাতভিত্তিক সংগঠনের সদস্যরা। তারা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। দেশের অন্যতম প্রাচীন প্রাতভিত্তিক সংগঠন ‘শতায়ু অঙ্গন’ তাদের পক্ষ থেকে একটি ব্যানার টাঙিয়ে জেলা প্রশাসককে অভিনন্দন জানায়। ব্যানারে লেখা ছিল—
“ডিসি হিলকে নতুন রূপে প্রাণবন্ত করে তোলার মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করায় মাননীয় জেলা প্রশাসককে আন্তরিক অভিনন্দন।”
‘প্রভাতী আড্ডা’ নামের আরেকটি সংগঠন তাদের ব্যানারে লেখে—
“আমাদের সকলের ভালোবাসা ও ভালো লাগার স্থান ডিসি হিল অঙ্গনকে নতুন সাজে সাজিয়ে তোলায় মাননীয় জেলা প্রশাসককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।”
এ ছাড়া ‘উজ্জীবন’ নামের সংগঠনটিও ব্যানার টাঙিয়ে এই উদ্যোগের প্রশংসা করে।
উজ্জীবনের সভাপতি মিল্টন ঘোষ বলেন, “আমরা ২০০৪ সাল থেকে নিয়মিত ডিসি হিলে আসছি। এত বছরে অনেক জেলা প্রশাসক দেখেছি, কিন্তু কেউ এভাবে ডিসি হিল সাজানোর উদ্যোগ নেননি। বর্তমান জেলা প্রশাসক আমাদের মানসিক স্বস্তির জায়গাটির দিকে নজর দিয়েছেন—এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
শতায়ু অঙ্গনের সভাপতি রুস্তম আলী বলেন, “আগেও অনেক ডিসি ছিলেন, কিন্তু কেউ করেননি। এই ডিসি করেছেন—এটাই সবচেয়ে বড় কথা।”
ডিসি হিল চট্টগ্রাম নগরবাসীর স্মৃতি, ভালোবাসা ও আবেগে ঘেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। হাঁটাহাঁটি ও নির্মল বাতাস উপভোগের পাশাপাশি সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে যাওয়ার নির্ভরযোগ্য আশ্রয় এই পাহাড়। ইতিহাস অনুযায়ী, ইংরেজ শাসনামলের শুরুর দিকে এখানে চাকমা রাজার বাড়ি ছিল। পরে জেলা প্রশাসকের বাসভবন স্থাপিত হওয়ায় পাহাড়টি ‘ডিসি হিল’ নামে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে এর চূড়ায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের সরকারি বাসভবনও রয়েছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেওয়া এই প্রাথমিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ডিসি হিল ভবিষ্যতে একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও নান্দনিক নগর উদ্যান হিসেবে গড়ে উঠবে, যা চট্টগ্রাম শহরের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।