রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা এবং অবৈধ ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৬ জন চীনা নাগরিক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ বিদেশি নাগরিকরা বিভিন্ন অনলাইন বিজ্ঞাপন, ভুয়া ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বাংলাদেশিদের অনলাইন জুয়ার ফাঁদে ফেলছিল।
তিনি বলেন, চক্রটি ফেসবুক, ইউটিউব ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। পরে বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে সেই অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হতো।
ডিবি জানায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় এসব প্রতারণার তথ্য শনাক্ত করা হয়। পরে উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নম্বর সেক্টর এবং তুরাগের রূপায়ণ হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
অভিযানে বিপুল প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন পোর্টের জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ, ২০টি স্মার্টফোন, নগদ অর্থ, বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট এবং একটি মাইক্রোবাস।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ব্যবহারকারীদের কিছু লাভ দেখিয়ে আকৃষ্ট করা হতো। পরে ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করে প্রতারণা করা হতো।
সিম নিবন্ধনের অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডিবি কর্মকর্তারা। তারা জানান, অসচেতন গ্রাহকদের আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন করে অপরাধচক্রের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণা বর্তমানে বড় ধরনের সামাজিক ও আর্থিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।