ইপেপার / প্রিন্ট
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতে বড় ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এর জবাবে ৫ লাখ ‘ড্রোন যোদ্ধা’ গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন বৃহস্পতিবার বিভিন্ন উন্নত অস্ত্রের পরীক্ষা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি সেনাবাহিনীকে সর্বাত্মক ও ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
কিম জং উন বলেন, শত্রুদের সবসময় ভীত ও চাপে রাখার মতো সামরিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে তারা কোনো ধরনের আগ্রাসনের সাহস না পায়। তিনি অস্ত্র কর্মসূচির নিখুঁততা ও কার্যক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরীক্ষা চালানো অস্ত্রগুলোর মধ্যে ছিল বিশেষ মিশনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড, দূরপাল্লার আধুনিক রকেট লঞ্চার এবং স্বয়ংক্রিয় কামান। উত্তর কোরিয়ার দাবি, এসব অস্ত্র শত্রুর বিমানঘাঁটি, বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নির্ভুল ও প্রাণঘাতী আঘাত হানতে সক্ষম।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক তৎপরতার জবাবে দক্ষিণ কোরিয়া ড্রোনভিত্তিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ৫ লাখ ‘ড্রোন যোদ্ধা’ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যারা ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের মতোই ড্রোন পরিচালনা করতে পারবেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বলেন, উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকি মোকাবিলায় ড্রোনের সংখ্যা ও কার্যপাল্লা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার নতুন অস্ত্র পরীক্ষা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ড্রোন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।