ইপেপার / প্রিন্ট
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী জেলে রহমান মিয়া এখনও প্রতিদিন খালের পানিতে খরা জাল ফেলে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বয়সের ভারকে উপেক্ষা করে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত থাকেন তিনি। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘খরা জাল’ পদ্ধতিতে মাছ ধরে যা আয় করেন, তা দিয়েই চলে তার সংসারের নানা খরচ।
পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ের জনক রহমান মিয়া জানান, প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে তিনি এই পদ্ধতিতে মাছ ধরছেন। মৌসুমভেদে মাসে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। তবে মাছের প্রাপ্যতা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। আগে একবার জাল ফেললেই প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় মাছ মেলে না।
তিনি মনে করেন, নদী-খাল ভরাট, পানি দূষণ এবং দেশীয় মাছের আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ার কারণেই মাছ কমে যাচ্ছে। তবুও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন নতুন আশায় জাল ফেলেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, রহমান মিয়া শুধু একজন জেলে নন, তিনি গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতীক। বয়স, কষ্ট কিংবা অনিশ্চয়তা তাকে থামাতে পারেনি। খালের জল আর খরা জালকে ঘিরেই তিনি এখনও বুনে চলেছেন জীবনের নতুন স্বপ্ন।