বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। সরকারি সভা, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সশরীরে উপস্থিতির পরিবর্তে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের সাশ্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রম যাতে নিরবচ্ছিন্ন, কার্যকর ও গতিশীলভাবে পরিচালিত হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলো আয়োজিত সভা, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের অনলাইনে যুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এবং জেলা পর্যায়ের কর্মসূচিতে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যথাসম্ভব ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে কর্মকর্তাদের যাতায়াত কমবে এবং সরকারি খাতে জ্বালানি ব্যয় হ্রাস পাবে বলে মনে করছে সরকার।
তবে সব ক্ষেত্রে অনলাইন অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়নি। কোনো কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে সশরীরে সভা, কর্মশালা বা প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে পারবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে কর্মকর্তাদের যাতায়াত কমে গেলে জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে, নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে গত ১২ এপ্রিল জারি করা পূর্ববর্তী নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে।
সরকারের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও সময়োপযোগী করে তুলবে।