আসন্ন ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বনলতা সেন সিনেমাটি মুক্তির আগেই দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ভিন্নধর্মী গল্প, নান্দনিক নির্মাণশৈলী এবং সাহিত্যঘন আবহের কারণে ছবিটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে সিনেমাটির গানগুলো প্রকাশের পর সেই আগ্রহ যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
এর আগে বাপ্পা মজুমদার-এর কণ্ঠে প্রকাশিত ‘এখানে কেউ নেই’ গানটি শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়ায়। এবার সিনেমাটির দ্বিতীয় গান দুজন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
ঈদের আগের দিন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড অক্টোবর–এর ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই গানটি নিয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো।
গানটির বিশেষত্ব হলো—এটি নির্মিত হয়েছে জীবনানন্দ দাশ-এর কালজয়ী কবিতা ‘দুজন’ অবলম্বনে। কবিতার মূল পঙ্ক্তিগুলো প্রায় অবিকৃত রেখেই সেটিকে গানে রূপ দেওয়া হয়েছে। ফলে সাহিত্য আর সংগীতের এক ব্যতিক্রমধর্মী মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন শ্রোতারা।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, গানটিতে মানুষের প্রেম, স্মৃতি, বিচ্ছেদ, সময় ও অনুভূতির গভীর মনস্তাত্ত্বিক দিক তুলে ধরা হয়েছে। শরতের নিস্তব্ধতা, প্রকৃতির আবহ এবং এক ধরনের চিরন্তন বিষণ্নতাকে সুর ও দৃশ্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
গানটির সুর ও কম্পোজিশন করেছেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। সংগীতায়োজন করেছেন বাপ্পা মজুমদার এবং কণ্ঠ দিয়েছেন দোলা রহমান।
প্রকাশের পর অল্প সময়েই গানটি প্রায় ৮৫ হাজার ভিউ অতিক্রম করেছে। তবে নির্মাতাদের মতে, সংখ্যার চেয়ে বড় অর্জন হলো দর্শকদের প্রতিক্রিয়া। ইউটিউবের মন্তব্যঘরে অনেকেই গানটিকে “মাস্টারপিস” বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
একজন শ্রোতা মন্তব্য করেন, “মাস্টারপিস! কবিতাটা যেভাবে গানে রূপ নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
আরেকজন লিখেছেন, “ব্যবসায়িক দিক নয়, এই সিনেমা সাহিত্যপ্রেমী মানুষের জন্য বিশেষ কিছু হতে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।”
বিশেষ করে দোলা রহমানের আবেগঘন কণ্ঠ এবং বাপ্পা মজুমদারের সংগীতায়োজনের প্রশংসা করছেন নেটিজেনরা। অনেকেই বলছেন, বাংলা চলচ্চিত্রে সাহিত্যভিত্তিক গানের এমন নান্দনিক প্রয়োগ দীর্ঘদিন পর দেখা গেল।
রেড অক্টোবর প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রের গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল নিজেই। একের পর এক গান ও ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে সিনেমাটি যে ধরনের আবহ তৈরি করছে, তাতে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের প্রত্যাশা—এই ঈদে ‘বনলতা সেন’ হতে পারে রুচিশীল দর্শকদের জন্য ভিন্ন স্বাদের একটি সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা।