পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল ও আশপাশের বিভিন্ন কাউন্টারে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ঈদের আগের দিন বুধবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাজারো যাত্রী কাউন্টারে ভিড় করেন। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, শেরপুর ও সিলেট রুটের বাসগুলোতে ছিল অতিরিক্ত চাপ।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের প্রায় প্রতিটি কাউন্টারের সামনেই দীর্ঘ লাইন। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে অপেক্ষা করছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই এসে অবস্থান নিয়েছেন। যাত্রীদের অনেকে জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে বাসের সংকট তৈরি হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।
ময়মনসিংহগামী যাত্রী আব্দুর রহমান বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফিরতেই হবে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হলেও এতে আনন্দের কমতি নেই। অন্যদিকে শেরপুরগামী যাত্রী নাসরীন জাহান বলেন, যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় কাউন্টারে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে অপেক্ষা করতে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে বেশ কয়েকটি পরিবহনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা জানান, সাধারণ সময়ে যে ভাড়া ৩০০ টাকা, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে তা বেড়ে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে। অভিযোগ রয়েছে, কাউন্টারের বাইরে যোগাযোগের মাধ্যমে টিকিটবিহীন যাত্রী তুলেই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলগামী এক যাত্রী জানান, একাধিক বাসে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হলেও বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত বেশি টাকা দিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। কারণ ঈদের আগে বিকল্প যানবাহন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, কাউন্টার থেকে নির্ধারিত ভাড়াতেই টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি বা মধ্যস্বত্বভোগীর কারণে যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাখালী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। টার্মিনাল এলাকায় পুলিশ, বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ টিম, কমিউনিটি পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।