মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের বাড়তি চাপের মধ্যেই সড়ক অবরোধের প্রভাবে দীর্ঘ যানজট তৈরি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেল ৪টার পর থেকে মহাসড়কের উভয়মুখী লেনে যানবাহনের চাপ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। পরে জামালদী মেঘনা সেতু এলাকা থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শত শত বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে পড়ে।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার টিপুরদী এলাকায় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। সেই অবরোধের প্রভাব ধীরে ধীরে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে যানজট গজারিয়ার ভবেরচর এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
যাত্রীরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে একই স্থানে আটকে থাকায় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঢাকাগামী মতলব পরিবহনের যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, ভবেরচর এলাকায় পৌঁছানোর পর থেকে যানজটে আটকে আছি। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে গাড়ি সামান্যও সামনে এগোয়নি। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি যাত্রাও অনেক কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে কুমিল্লামুখী প্রাইভেটকার চালক হাসান মিয়া বলেন, ঈদ উপলক্ষে এমনিতেই সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এর মধ্যে অবরোধের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। পরিবার নিয়ে যাত্রা করায় অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
এ বিষয়ে ভবেরচর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ কামাল আখন্দ জানান, সোনারগাঁওয়ের টিপুরদী এলাকায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে মহাসড়কগুলোতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকায় সামান্য বিঘ্নও বড় ধরনের যানজটে রূপ নিচ্ছে। তাই যাত্রীদের সময় নিয়ে যাত্রা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।